জানতে চাই সার্চ করুন

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের নিয়ম — জানতে চাই

· 7 বার পড়া হয়েছে · সর্বশেষ হালনাগাদ 11 Oct 2026

বাংলাদেশে মোটরযান চালানোর জন্য লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স হলো প্রথম ধাপ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন আবেদনকারীকে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে এই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পার হলে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই মূল ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়।

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই নিম্নোক্ত শর্তাবলি পূরণ করতে হবে:

  • বয়স: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।
  • শারীরিক সক্ষমতা: আবেদনকারীকে শারীরিকভাবে সুস্থ এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
    • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ।
    • সঠিকভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্র (অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি)।
    • রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট (চোখের দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার সনদ)।
    • ইউটিলিটি বিলের কপি (বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে)।
    • সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপসমূহ

বর্তমানে বিআরটিএ-এর BSP (BRTA Service Portal)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা সম্ভব। নিচে পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো দেওয়া হলো:

১. রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে bsp.brta.gov.bd পোর্টালে গিয়ে নিজের এনআইডি, জন্ম তারিখ এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। ২. আবেদন ফরম পূরণ: পোর্টালে লগইন করার পর 'ড্রাইভিং লাইসেন্স' মেনু থেকে 'লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন' অপশনটি নির্বাচন করুন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করুন। ৩. কাগজপত্র আপলোড: স্ক্যান করা ছবি, এনআইডি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আপলোড করুন। ৪. ফি প্রদান: আবেদনের ফি অনলাইনে (বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডের মাধ্যমে) পরিশোধ করতে হবে। লার্নার লাইসেন্সের ফি বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত এবং এটি পোর্টালে প্রদর্শিত হবে। ৫. আবেদন জমা: সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি সাবমিট করুন। ৬. লাইসেন্স প্রিন্ট: আবেদন অনুমোদিত হলে বিএসপি পোর্টাল থেকে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

লার্নার লাইসেন্স ফি ও মেয়াদ

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত। সাধারণত, আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পর লাইসেন্সটি ইস্যু করা হয়। লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত ৩ (তিন) মাস হয়ে থাকে। এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং পরবর্তী মূল লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়।

সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

আবেদন করার সময় অনেক আবেদনকারী কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন, যা এড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

  • ভুল তথ্য প্রদান: এনআইডি কার্ডের তথ্যের সাথে আবেদনের তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই এনআইডি অনুযায়ী তথ্য প্রদান করুন।
  • অস্পষ্ট ছবি: আপলোড করা ছবি বা ডকুমেন্টের কপি অস্পষ্ট হলে তা গ্রহণ করা হয় না। উচ্চ রেজোলিউশনের স্ক্যান কপি ব্যবহার করুন।
  • মেডিকেল সার্টিফিকেট: বিআরটিএ অনুমোদিত বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছ থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন।
  • সময়সীমা: লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পুনরায় লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার প্রস্তুতি

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর একজন আবেদনকারীকে লিখিত, মৌখিক এবং ফিল্ড টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হয়। এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিআরটিএ-এর ওয়েবসাইট থেকে ট্রাফিক সাইন এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত নির্দেশিকাগুলো ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। এছাড়া, অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

সহায়ক লিংক

  • বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP): https://bsp.brta.gov.bd
  • বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) ওয়েবসাইট: https://brta.gov.bd
  • ট্রাফিক সাইন ও নিয়মাবলি: https://brta.gov.bd (বিআরটিএ সাইটের 'ড্রাইভিং লাইসেন্স' সেকশন দেখুন)

সংক্ষেপে

  • লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বিএসপি (BSP) পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করা বাধ্যতামূলক।
  • আবেদনের জন্য এনআইডি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করা আবশ্যক।
  • লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ ৩ মাস, যা মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পূর্বশর্ত।

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন