জানতে চাই সার্চ করুন

হারানো ড্রাইভিং লাইসেন্স ডুপ্লিকেট করার নিয়ম — জানতে চাই

· 6 বার পড়া হয়েছে · সর্বশেষ হালনাগাদ 11 Oct 2026

ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে বিআরটিএ (BRTA) থেকে ডুপ্লিকেট লাইসেন্স সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু আইনি ধাপ অনুসরণ করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিতে হয়। বর্তমানে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রস্তুতি

ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনের আগে নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখা আবশ্যক:

  • সাধারণ ডায়েরি (GD): লাইসেন্স হারিয়ে গেলে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে। জিডি কপির স্ক্যান কপি আবেদনের সময় প্রয়োজন হয়।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
  • লাইসেন্সের তথ্য: হারিয়ে যাওয়া লাইসেন্সের নম্বর বা রেফারেন্স নম্বর জানা থাকলে প্রক্রিয়াটি দ্রুত হয়।
  • ছবি ও স্বাক্ষর: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রোফাইল তৈরির সময় ডিজিটাল ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হয়।

ডুপ্লিকেট লাইসেন্স পাওয়ার ধাপসমূহ

ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত: অনলাইন আবেদন এবং বায়োমেট্রিক প্রদান।

১. অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া

বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (https://bsp.brta.gov.bd) ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে:

১. রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিজের এনআইডি, জন্ম তারিখ এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। ২. লগইন: অ্যাকাউন্ট তৈরির পর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। ৩. আবেদন নির্বাচন: ড্যাশবোর্ড থেকে 'ড্রাইভিং লাইসেন্স' মেনুতে গিয়ে 'ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স'-এর জন্য আবেদন নির্বাচন করুন। ৪. তথ্য প্রদান: আপনার লাইসেন্স নম্বর প্রদান করুন এবং হারিয়ে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করুন। এরপর থানায় করা জিডি-র কপি আপলোড করুন। ৫. ফি প্রদান: আবেদনের পর সিস্টেম থেকে নির্ধারিত ফি পরিশোধের অপশন আসবে। আপনি বিকাশ, নগদ, রকেট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারবেন।

২. বায়োমেট্রিক প্রদান ও লাইসেন্স সংগ্রহ

অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ধাপগুলো হলো:

১. অ্যাপয়েন্টমেন্ট: আবেদন সফলভাবে জমা হওয়ার পর বিআরটিএ থেকে আপনাকে বায়োমেট্রিক প্রদানের জন্য একটি তারিখ ও সময় জানানো হবে। ২. সশরীরে উপস্থিতি: নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে উপস্থিত হয়ে আপনার আঙুলের ছাপ, চোখের মণি এবং ডিজিটাল ছবি প্রদান করতে হবে। ৩. লাইসেন্স গ্রহণ: বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। কার্ড প্রস্তুত হলে আপনাকে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে অথবা আপনি পোর্টাল থেকে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।

ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের ফি ও সময়সীমা

বিআরটিএ-এর নির্ধারিত ফি সরকারি গেজেট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি এবং ভ্যাট প্রযোজ্য হয়।

সেবার ধরন আনুমানিক ফি (টাকা)
ডুপ্লিকেট লাইসেন্স ফি ৮০০ - ১০০০ টাকা (ভ্যাটসহ)
স্মার্ট কার্ড ফি ৫০০ - ৮০০ টাকা

দ্রষ্টব্য: ফি সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের জন্য বিআরটিএ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (brta.gov.bd) নিয়মিত চেক করা উচিত।

সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

  • ভুল তথ্য প্রদান: আবেদনে ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই এনআইডি অনুযায়ী সঠিক তথ্য প্রদান করুন।
  • জিডি কপি: জিডি কপিটি অবশ্যই স্পষ্ট হতে হবে। অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ জিডি কপি গ্রহণযোগ্য নয়।
  • দালাল থেকে সাবধান: বিআরটিএ-এর কোনো সেবা পাওয়ার জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের শরণাপন্ন হবেন না। সরাসরি বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল ব্যবহার করা নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী।
  • এসএমএস যাচাই: লাইসেন্স সংক্রান্ত যেকোনো এসএমএস শুধুমাত্র বিআরটিএ-এর অফিসিয়াল নম্বর থেকে আসে কি না তা নিশ্চিত করুন।

বিআরটিএ-এর সাথে যোগাযোগ

যদি অনলাইন আবেদনে কোনো সমস্যা হয়, তবে আপনি সরাসরি আপনার নিকটস্থ বিআরটিএ সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া বিআরটিএ-এর হটলাইন বা ইমেইলের মাধ্যমেও সহায়তা নেওয়া সম্ভব।

সহায়ক লিংক

সংক্ষেপে

  • লাইসেন্স হারালে প্রথমেই নিকটস্থ থানায় জিডি করুন এবং বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করুন।
  • অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত দিনে বিআরটিএ অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক প্রদান করুন।
  • স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত হলে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে, যা পরবর্তীতে অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন