জানতে চাই সার্চ করুন

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি ২০২৬ — জানতে চাই

· 7 বার পড়া হয়েছে · সর্বশেষ হালনাগাদ 11 Oct 2026

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং নবায়নের ফি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) কর্তৃক নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত ফি প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে লাইসেন্সের ধরন (পেশাদার বা অপেশাদার) এবং স্মার্ট কার্ডের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হয়। এই ফি সাধারণত বিআরটিএ-এর নির্ধারিত ব্যাংক বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি-এর কাঠামো

ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি মূলত দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত: লার্নার লাইসেন্স ফি এবং মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি

মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদনের আগে লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

  • ফি: লার্নার লাইসেন্স ফি বাবদ সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি (ভ্যাটসহ) জমা দিতে হয়। এটি সাধারণত ৫১৮ টাকা (ভ্যাটসহ) নির্ধারণ করা থাকে, তবে সরকারি নির্দেশনায় পরিবর্তন সাপেক্ষে এটি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

২. স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি (অপেশাদার)

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদের জন্য ফি কাঠামো নিম্নরূপ:

  • লাইসেন্স ফি: ২,৫০০ টাকা।
  • স্মার্ট কার্ড ফি: ১,৪০০ টাকা।
  • ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): নির্ধারিত ফি।
  • ভ্যাট: মোট ফি-এর ওপর ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য।

৩. স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি (পেশাদার)

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদের জন্য ফি কাঠামো:

  • লাইসেন্স ফি: ১,৫০০ টাকা।
  • স্মার্ট কার্ড ফি: ১,৪০০ টাকা।
  • ভ্যাট: ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য।

দ্রষ্টব্য: উল্লিখিত ফিগুলো বিআরটিএ-এর সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদনকারীকে পেমেন্ট করার আগে BRTA সার্ভিস পোর্টাল থেকে বর্তমান ফি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের ধাপসমূহ

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ডিজিটাল করা হয়েছে। নিচে পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো তুলে ধরা হলো:

১. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে (bsp.brta.gov.bd) নিজের এনআইডি (NID) নম্বর, জন্ম তারিখ এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। ২. লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন: পোর্টালে লগইন করে লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন এবং প্রয়োজনীয় ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন। ৩. পরীক্ষায় অংশগ্রহণ: লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পার হলে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ৪. বায়োমেট্রিক প্রদান: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিআরটিএ অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষর (বায়োমেট্রিক) প্রদান করতে হবে। ৫. লাইসেন্স সংগ্রহ: বায়োমেট্রিক প্রদানের পর স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হলে এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানানো হবে। এরপর বিআরটিএ অফিস থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করা যাবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের সময় নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো সাথে রাখা বা আপলোড করা প্রয়োজন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম সনদের কপি।
  • রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের নিকট থেকে প্রাপ্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট (বিআরটিএ নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী)।
  • ইউটিলিটি বিলের কপি (ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে)।
  • পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।

সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

  • দালাল থেকে সাবধান: ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য সরাসরি বিআরটিএ অফিস বা তাদের অফিসিয়াল পোর্টালে যোগাযোগ করুন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়।
  • তথ্য যাচাই: অনলাইনে আবেদন করার সময় এনআইডি-এর সাথে নাম ও জন্ম তারিখের মিল নিশ্চিত করুন। তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
  • ফি পরিশোধ: শুধুমাত্র বিআরটিএ অনুমোদিত ব্যাংক বা পোর্টালে প্রদর্শিত পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে ফি জমা দিন। ভুয়া রসিদ বা পেমেন্ট থেকে সতর্ক থাকুন।
  • মেয়াদ: লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করা উচিত, অন্যথায় জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে।

সহায়ক লিংক

সংক্ষেপে

  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি প্রদানের জন্য বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (bsp.brta.gov.bd) ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
  • লাইসেন্সের ধরন (পেশাদার/অপেশাদার) অনুযায়ী ফি ভিন্ন হয় এবং এর সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত থাকে।
  • লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার জন্য সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং কোনো অবস্থাতেই অননুমোদিত ব্যক্তির সহায়তা নেবেন না।

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন