জানতে চাই সার্চ করুন

বিদেশে পাসপোর্ট নবায়ন — জানতে চাই

· 10 বার পড়া হয়েছে · সর্বশেষ হালনাগাদ 11 Jul 2026

বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নের গুরুত্ব

বিদেশে বৈধভাবে বসবাস, কাজ বা পড়াশোনার জন্য একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকা অপরিহার্য। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আপনি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন, যেমন:

  • ভ্রমণে বাধা।
  • ভিসা বা রেসিডেন্সি পারমিট নবায়নে সমস্যা।
  • ব্যাংকিং বা অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনে জটিলতা।
  • আইনি জটিলতা বা জরিমানা।

তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ [৭]।

বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নের সাধারণ প্রক্রিয়া

বিদেশে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়:

১. অনলাইন আবেদন পূরণ: ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.passport.gov.bd) গিয়ে অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করা [২], [৩], [৮]। ২. দূতাবাসে বা হাইকমিশনে সশরীরে উপস্থিতি: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি সহ নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি ও স্বাক্ষর) প্রদান এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা [৩]।

ই-পাসপোর্ট নবায়নের ধাপসমূহ

বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর বা ই-পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া একই। সকল এমআরপি ধারকদের মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে [৫]।

ধাপ ১: অনলাইনে আবেদন পূরণ

১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.passport.gov.bd এ প্রবেশ করুন। ২. নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি/লগইন: যদি আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। অ্যাকাউন্ট থাকলে আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। ৩. আবেদনের ধরন নির্বাচন: 'Apply for a new passport' অপশনে ক্লিক করুন [৮]। এখানে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে আপনি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করছেন নাকি বিদেশ থেকে [২]। 'I am applying from abroad' (আমি বিদেশ থেকে আবেদন করছি) অপশনটি নির্বাচন করুন। ৪. দূতাবাস/হাইকমিশন নির্বাচন: আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন নির্বাচন করুন। ৫. পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন: 'Re-issue' (পুনরায় ইস্যু) অপশনটি নির্বাচন করুন। ৬. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ: আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন - নাম, জন্মতারিখ, পেশা, ঠিকানা ইত্যাদি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। আপনার পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য (পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ) সঠিকভাবে উল্লেখ করুন [৮]। ৭. পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠা সংখ্যা নির্বাচন: আপনি ৫ বছর মেয়াদের ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নাকি ১০ বছর মেয়াদের ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট চান, তা নির্বাচন করুন। সাধারণত ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট বেছে নেওয়া সুবিধাজনক। ৮. পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন: অনলাইন পেমেন্টের অপশন থাকলে তা নির্বাচন করুন অথবা অফলাইন পেমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন। ৯. তথ্য যাচাই ও জমা: পূরণকৃত সকল তথ্য একাধিকবার যাচাই করুন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদনটি জমা দিন। ১০. আবেদন ফর্ম প্রিন্ট: আবেদন সফলভাবে জমা হওয়ার পর একটি অ্যাপ্লিকেশন সামারি বা বারকোডসহ ফর্ম তৈরি হবে। এটি এ-ফোর সাইজের কাগজে উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করে নিন [৩], [৭]।

ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ

দূতাবাসে যাওয়ার আগে নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখুন:

  • অনলাইন আবেদন ফর্ম: প্রিন্ট করা অ্যাপ্লিকেশন সামারি বা বারকোডসহ ফর্ম [৩], [৭]।
  • পুরোনো পাসপোর্ট: মূল কপি এবং ডেটা পেজ ও ভিসার ফটোকপি [৩]।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC): মূল কপি এবং ফটোকপি। যদি আপনার NID না থাকে, তবে জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে পারেন।
  • বাসস্থানের প্রমাণ: আপনি যে দেশে আছেন, সেখানে আপনার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেমন: ইউটিলিটি বিল, রেসিডেন্সি পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স) এর ফটোকপি।
  • ভিসা/রেসিডেন্সি পারমিট: আপনার বর্তমান ভিসার কপি বা রেসিডেন্সি পারমিটের ফটোকপি।
  • পাসপোর্ট ফি পরিশোধের রশিদ: যদি অনলাইনে পেমেন্ট করে থাকেন, তার রশিদ। অথবা দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত ব্যাংক বা কাউন্টারে ফি জমা দেওয়ার রশিদ।
  • পেশাগত প্রমাণপত্র (যদি থাকে): যেমন - ওয়ার্ক পারমিট, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ইত্যাদি।
  • তথ্য সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র (যদি প্রয়োজন হয়): যদি আপনি নাম, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য সংশোধন করতে চান, তাহলে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন: শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, বিবাহ সনদ, আদালতের হলফনামা) সংযুক্ত করতে হবে [৪], [৬]।

ধাপ ৩: ফি পরিশোধ

পাসপোর্ট নবায়নের ফি বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং পাসপোর্টের ধরন (সাধারণ, জরুরি, অতি জরুরি), মেয়াদ (৫ বছর, ১০ বছর) এবং পৃষ্ঠা সংখ্যার (৪৮ পৃষ্ঠা, ৬৪ পৃষ্ঠা) উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। সাধারণত, বিদেশে পাসপোর্ট নবায়নের ফি দেশীয় ফি থেকে কিছুটা বেশি হয়।

ফি পরিশোধের পদ্ধতি:

  • অনলাইন: কিছু দূতাবাস অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা প্রদান করে।
  • ব্যাংক: দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত ব্যাংকে ফি জমা দিতে হতে পারে।
  • দূতাবাসের কাউন্টার: কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি দূতাবাসে ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ (অনুমানভিত্তিক ফি, যা পরিবর্তিত হতে পারে):

পাসপোর্টের ধরন মেয়াদ পৃষ্ঠা সংখ্যা আনুমানিক ফি (USD)
সাধারণ ৫ বছর ৪৮ পৃষ্ঠা $100 - $120
জরুরি ৫ বছর ৪৮ পৃষ্ঠা $150 - $180
সাধারণ ১০ বছর ৪৮ পৃষ্ঠা $120 - $150
জরুরি ১০ বছর ৪৮ পৃষ্ঠা $180 - $220
সাধারণ ১০ বছর ৬৪ পৃষ্ঠা $150 - $180
জরুরি ১০ বছর ৬৪ পৃষ্ঠা $220 - $250

গুরুত্বপূর্ণ: সঠিক ও হালনাগাদ ফি জানতে আপনার সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

ধাপ ৪: দূতাবাসে বা হাইকমিশনে এপয়েন্টমেন্ট ও বায়োমেট্রিক

১. এপয়েন্টমেন্ট বুকিং: অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করার সময় বা পরে আপনাকে দূতাবাস/হাইকমিশনে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের জন্য একটি এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে [৩]। কিছু দূতাবাস তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা রাখে। ২. সশরীরে উপস্থিতি: নির্ধারিত তারিখে ও সময়ে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (মূল ও ফটোকপি) এবং ফি পরিশোধের রশিদ সহ দূতাবাসে উপস্থিত হন। ৩. বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান: দূতাবাসে আপনার আঙুলের ছাপ, ডিজিটাল ছবি এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে। ই-পাসপোর্টের জন্য আলাদা করে ছবি তোলার প্রয়োজন হয় না, কারণ বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ছবি তোলা হয় [৩]। ৪. আবেদন জমা: সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণের পর আপনার আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা নেওয়া হবে।

ধাপ ৫: পাসপোর্ট সংগ্রহ

১. প্রক্রিয়াকরণের সময়: পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণের সময় সাধারণ, জরুরি বা অতি জরুরি সেবার উপর নির্ভর করে। তবে বিদেশে আবেদনকারীদের জন্য সাধারণত বেশি সময় লাগে। এটি কয়েক মাস পর্যন্ত লাগতে পারে [৪]। * সাধারণ: ৩০-৪৫ কার্যদিবস (তবে বিদেশে এই সময় আরও বেশি হতে পারে)। * জরুরি: ১৫-২১ কার্যদিবস। * অতি জরুরি: ৭-১০ কার্যদিবস (সব দূতাবাসে এই সেবা নাও থাকতে পারে)। ২. পাসপোর্ট স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং: আপনি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন। ৩. সংগ্রহের নোটিফিকেশন: পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে দূতাবাস সাধারণত এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে আপনাকে জানিয়ে দেবে। ৪. পাসপোর্ট সংগ্রহ: নোটিফিকেশন পাওয়ার পর আপনার পুরোনো পাসপোর্ট এবং আবেদন জমা দেওয়ার রশিদ নিয়ে দূতাবাসে গিয়ে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় পুরোনো পাসপোর্টটি বাতিল করে দেওয়া হয়।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও সাধারণ ভুল এড়ানোর উপায়

  • সময় নিয়ে আবেদন করুন: পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করুন। প্রবাসীদের জন্য প্রক্রিয়াকরণে বেশি সময় লাগতে পারে, তাই তাড়াহুড়ো এড়াতে আগেভাগেই আবেদন করা উচিত [১], [৭]।
  • তথ্য নির্ভুল রাখুন: অনলাইন ফর্মে সকল তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পূরণ করুন। কোনো ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
  • **দূতাবাসের

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন