পাসপোর্ট নবায়ন ফি ২০২৬ বাংলাদেশ — জানতে চাই
পাসপোর্ট নবায়ন ফি ২০২৬ বাংলাদেশ: বিস্তারিত গাইডলাইন
২০২৬ সালে বাংলাদেশে পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে মূলত ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হবে, কারণ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। পাসপোর্ট নবায়ন বলতে আপনার মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া পাসপোর্টটির পরিবর্তে একটি নতুন ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করাকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়ায় ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন পদ্ধতি নতুন ই-পাসপোর্ট আবেদনের মতোই হবে। ২০২৬ সালের জন্য ফি কাঠামো বর্তমান ফি-এর অনুরূপ থাকার সম্ভাবনা বেশি, তবে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা পরিবর্তন হতে পারে। এই নিবন্ধে আমরা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য পাসপোর্ট নবায়ন ফি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
ই-পাসপোর্ট নবায়ন ফি ২০২৬ (বাংলাদেশ)
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট নবায়নের ফি বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন - পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বছর বা ১০ বছর), পৃষ্ঠার সংখ্যা (৪৮ পৃষ্ঠা বা ৬৪ পৃষ্ঠা) এবং ডেলিভারির ধরন (নিয়মিত, জরুরি বা অতি জরুরি)। সকল ফি-এর সাথে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিচে একটি সারণীর মাধ্যমে বিস্তারিত ফি কাঠামো তুলে ধরা হলো [৪, ৭]:
ফি কাঠামো: নিয়মিত, জরুরি ও অতি জরুরি
| পাসপোর্টের ধরন | ডেলিভারির ধরন | ফি (১৫% ভ্যাট সহ) |
|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা / ৫ বছর মেয়াদী | নিয়মিত | ৳ ৪,০২৫ |
| জরুরি | ৳ ৬,৩২৫ | |
| অতি জরুরি | ৳ ৮,৬২৫ | |
| ৪৮ পৃষ্ঠা / ১০ বছর মেয়াদী | নিয়মিত | ৳ ৫,৭৫০ |
| জরুরি | ৳ ৮,০৫০ | |
| অতি জরুরি | ৳ ১০,৩৫০ | |
| ৬৪ পৃষ্ঠা / ৫ বছর মেয়াদী | নিয়মিত | ৳ ৬,৩২৫ |
| জরুরি | ৳ ৮,৬২৫ | |
| অতি জরুরি | ৳ ১২,০৭৫ | |
| ৬৪ পৃষ্ঠা / ১০ বছর মেয়াদী | নিয়মিত | ৳ ৮,০৫০ |
| জরুরি | ৳ ১০,৩৫০ | |
| অতি জরুরি | ৳ ১৩,৮০০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
- নিয়মিত ডেলিভারি: সাধারণত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
- জরুরি ডেলিভারি: সাধারণত ৭-১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
- অতি জরুরি ডেলিভারি: সাধারণত ২-৩ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
- এই ফি কাঠামো ২০২৫-২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (epassport.gov.bd) যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া (ই-পাসপোর্ট)
আপনার পুরাতন MRP বা ই-পাসপোর্ট নবায়ন করে নতুন ই-পাসপোর্ট পেতে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে [২, ৬]:
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলোর প্রয়োজন হয়:
- পুরাতন পাসপোর্ট: মূল পাসপোর্ট এবং এর তথ্য পাতার ফটোকপি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): মূল এনআইডি কার্ড এবং ফটোকপি। যদি আপনার পুরাতন পাসপোর্টের তথ্যের সাথে এনআইডি-র তথ্যের অমিল থাকে, তবে এনআইডি অনুযায়ী তথ্য সংশোধন করতে হবে।
- জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC): যদি আপনার এনআইডি না থাকে অথবা ১৮ বছরের কম বয়সী হন, তবে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন।
- ঠিকানা প্রমাণের জন্য: বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি (যদি স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন হয়)।
- পেশাগত সনদ: যদি পেশা পরিবর্তন হয়ে থাকে, তবে তার প্রমাণপত্র (যেমন: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য GO/NOC)।
- বিবাহ সনদ: বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বামীর নাম যোগ করতে চাইলে বিবাহ সনদ।
- আবেদন ফরম: অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি।
- ফি পরিশোধের রশিদ: অনলাইন বা ব্যাংক থেকে ফি পরিশোধের মূল রশিদ।
নবায়নের ধাপসমূহ
-
অনলাইন আবেদন:
- ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (www.epassport.gov.bd) প্রবেশ করুন।
- "Apply Online" অপশনে ক্লিক করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন অথবা লগইন করুন।
- আবেদন ফরমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, পেশা ইত্যাদি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। পুরাতন পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী পূরণ করা উচিত। যদি কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে হয় (যেমন: নাম, ঠিকানা, পেশা), তবে তার সপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে।
- আবেদন ফরম পূরণ শেষে এটি সাবমিট করুন এবং একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি (Application ID) ও একটি সামারি পেজ (Summary Page) পাবেন। এই পেজটি প্রিন্ট করে নিন।
-
ফি পরিশোধ:
- আবেদন ফরম পূরণের পর আপনার নির্বাচিত পাসপোর্টের ধরন ও ডেলিভারি অনুযায়ী ফি পরিশোধ করতে হবে।
- ফি অনলাইনে (যেমন: মোবাইল ব্যাংকিং - বিকাশ, নগদ, রকেট, অথবা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) অথবা অফলাইনে (তালিকাভুক্ত ব্যাংকের শাখায়) পরিশোধ করা যায় [৮]।
- ফি পরিশোধের পর একটি ই-চালান বা রসিদ সংগ্রহ করুন।
-
অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও বায়োমেট্রিক:
- অনলাইন আবেদন এবং ফি পরিশোধের পর আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি ও স্বাক্ষর) প্রদানের জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় নির্বাচন করতে হবে।
- নির্বাচিত তারিখে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (মূল ও ফটোকপি), অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি এবং ফি পরিশোধের রশিদ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।
- কর্মকর্তা আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন এবং আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করবেন।
-
পুলিশ ভেরিফিকেশন (যদি প্রয়োজন হয়):
- কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি আপনার ঠিকানা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে পরিবর্তন থাকে, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন হতে পারে। এটি সাধারণত নতুন পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বেশি হয়, নবায়নের ক্ষেত্রে কম।
-
পাসপোর্ট সংগ্রহ:
- পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে আপনি এসএমএস-এর মাধ্যমে জানতে পারবেন।
- পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত তারিখে আপনার পুরাতন পাসপোর্ট, ডেলিভারি স্লিপ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।
- পুরাতন পাসপোর্ট জমা দিয়ে নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
ফি পরিশোধের পদ্ধতি
পাসপোর্ট নবায়নের ফি পরিশোধের জন্য বেশ কয়েকটি সহজ পদ্ধতি রয়েছে [৮]:
- অনলাইন পেমেন্ট:
- এ-চালান: বাংলাদেশ সরকারের এ-চালান সিস্টেম ব্যবহার করে অনলাইনে ফি পরিশোধ করা যায়।
- মোবাইল ব্যাংকিং: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ইত্যাদি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ফি পরিশোধ করা যায়।
- ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড: ভিসা, মাস্টারকার্ড বা অ্যামেক্স কার্ড ব্যবহার করেও অনলাইনে ফি পরিশোধ করা সম্ভব।
- ব্যাংকের মাধ্যমে:
- নিম্নলিখিত ব্যাংকগুলোর যেকোনো শাখায় সরাসরি ফি জমা দেওয়া যায়:
- সোনালী ব্যাংক
- ওয়ান ব্যাংক
- ট্রাস্ট ব্যাংক
- প্রিমিয়ার ব্যাংক
- ব্যাংক এশিয়া
- ঢাকা ব্যাংক
- ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
- এনআরবি ব্যাংক
- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক
- আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
- নিম্নলিখিত ব্যাংকগুলোর যেকোনো শাখায় সরাসরি ফি জমা দেওয়া যায়:
ফি পরিশোধের সময় অবশ্যই আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি এবং অন্যান্য সঠিক তথ্য প্রদান করুন এবং রসিদটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও টিপস
- মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে আবেদন: পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে নবায়নের জন্য আবেদন করা উচিত। এতে কোনো জটিলতা ছাড়াই সময়মতো নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।
- তথ্য যাচাই: অনলাইন আবেদন ফরমে সকল
তথ্যসূত্র
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পাসপোর্ট নবায়নের জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন?
পাসপোর্ট নবায়নের ফি কি?
পাসপোর্ট নবায়নের জন্য কত সময় লাগে?
পাসপোর্ট নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়?
পাসপোর্ট নবায়নের ফি কিভাবে পরিশোধ করা যায়?
সম্পর্কিত বিষয়
আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।
জানতে চাই-তে খুঁজুন