পাসপোর্ট নবায়ন ফি ২০২৬ বাংলাদেশ — জানতে চাই
২০২৬ সালে বাংলাদেশে পাসপোর্ট নবায়নের ফি বর্তমান ফি কাঠামোর উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে, যা সরকার কর্তৃক পরিবর্তিত হতে পারে। তবে, ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট নবায়নের জন্য যে ফি কাঠামো প্রযোজ্য, তা নিচে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হলো। ই-পাসপোর্ট বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র চালু পাসপোর্ট ব্যবস্থা এবং পুরাতন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) নবায়নের ক্ষেত্রেও ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়।
ই-পাসপোর্ট নবায়ন ফি (২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী)
ই-পাসপোর্ট নবায়নের ফি পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বছর বা ১০ বছর), পৃষ্ঠার সংখ্যা (৪৮ পৃষ্ঠা বা ৬৪ পৃষ্ঠা) এবং ডেলিভারির ধরন (সাধারণ, জরুরি বা অতি জরুরি) এর উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। এই ফিগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে আবেদনের জন্য প্রযোজ্য।
ফি কাঠামো
| পাসপোর্টের ধরন | মেয়াদ | পৃষ্ঠা সংখ্যা | সাধারণ ডেলিভারি (২১ কার্যদিবস) | জরুরি ডেলিভারি (৭ কার্যদিবস) | অতি জরুরি ডেলিভারি (২ কার্যদিবস) |
|---|---|---|---|---|---|
| ই-পাসপোর্ট | ৫ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ই-পাসপোর্ট | ৫ বছর | ৬৪ পৃষ্ঠা | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ই-পাসপোর্ট | ১০ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ই-পাসপোর্ট | ১০ বছর | ৬৪ পৃষ্ঠা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
- উপরে উল্লিখিত ফিগুলো ভ্যাট (VAT) সহ প্রযোজ্য।
- ২০২৬ সালের জন্য এই ফি কাঠামো পরিবর্তন হতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ফি নির্ধারিত হলে তা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (epassport.gov.bd) জানানো হবে।
ফি পরিশোধের পদ্ধতি
পাসপোর্ট নবায়নের ফি বিভিন্ন উপায়ে পরিশোধ করা যায়:
- অনলাইন পেমেন্ট: ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (epassport.gov.bd) আবেদন করার সময় অনলাইন পেমেন্টের অপশন থাকে। ডেবিট কার্ড (যেমন ভিসা, মাস্টারকার্ড), ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন বিকাশ, রকেট, নগদ) এর মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যায় [১]।
- ব্যাংকের মাধ্যমে: নির্ধারিত সরকারি ব্যাংকগুলোতে (যেমন সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক) চালানের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যায়। চালানের ফর্ম অনলাইনে পূরণ করে প্রিন্ট করে অথবা ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করে পূরণ করতে হয়।
পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া
ই-পাসপোর্ট নবায়নের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনে শুরু হয় এবং কিছু ধাপ সম্পন্ন করার জন্য পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়।
অনলাইনে আবেদন (ধাপে ধাপে)
১. ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (epassport.gov.bd) ভিজিট করুন [১]। ২. নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি/লগইন: যদি আপনার পূর্বে অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে "Apply Online" অপশনে ক্লিক করে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। ইমেইল আইডি এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। যদি অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে লগইন করুন। ৩. আবেদন ফর্ম পূরণ: * "Apply for a New e-Passport" অথবা "Re-issue of e-Passport" অপশনটি নির্বাচন করুন। * আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান পাসপোর্টের তথ্য (যদি থাকে), জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) নম্বর, ঠিকানা ইত্যাদি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন [২]। * পাসপোর্টের ধরন (৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা), মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর) এবং ডেলিভারির ধরন (সাধারণ, জরুরি, অতি জরুরি) নির্বাচন করুন। * আবেদনের সময় কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন নেই [৭]। * আবেদন ফরমে কোনো ছবি সংযোজন করার প্রয়োজন নেই [৭]। ৪. ফি পরিশোধ: ফর্ম পূরণের পর ফি পরিশোধের অপশন আসবে। অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে ফি পরিশোধ করুন অথবা ব্যাংক চালানের তথ্য পূরণ করে চালান প্রিন্ট করে ব্যাংকে জমা দিন। ৫. অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং: ফি পরিশোধের পর আপনার নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসের জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময় নির্বাচন করুন। ৬. আবেদন ফর্ম প্রিন্ট: পূরণকৃত আবেদন ফর্মটি (Application Summary) এবং পেমেন্ট স্লিপ/চালান প্রিন্ট করে নিন। ৭. পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক: নির্বাচিত তারিখে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন। সেখানে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর) গ্রহণ করা হবে। ৮. ডেলিভারি: বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময় পর সেই স্লিপ দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। পাসপোর্ট স্ট্যাটাস অনলাইনে (epassport.gov.bd/status) চেক করা যায় [১]।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
- পুরাতন পাসপোর্ট: আপনার মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষের পথে থাকা পুরাতন পাসপোর্ট।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC): আপনার বর্তমান NID কার্ডের মূল কপি ও ফটোকপি। যদি NID না থাকে, তাহলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি [২]।
- পেমেন্ট স্লিপ/চালান: পাসপোর্ট ফি পরিশোধের মূল রশিদ বা অনলাইন পেমেন্টের প্রমাণপত্র।
- আবেদন ফর্মের সারাংশ: অনলাইনে পূরণকৃত আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি (Application Summary)।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র (প্রয়োজনে): বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল বা ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র (যদি বর্তমান ঠিকানা NID-এর ঠিকানার সাথে ভিন্ন হয়)।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী ও টিপস
- ২০২৬ সালের ফি: ২০২৬ সালের পাসপোর্ট নবায়ন ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। বর্তমান ফি কাঠামো একটি নির্দেশিকা মাত্র। নতুন ফি সম্পর্কে জানতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
- MRP থেকে ই-পাসপোর্ট: যদি আপনার পুরাতন পাসপোর্টটি MRP হয়, তবে নবায়নের ক্ষেত্রে আপনাকে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। এটি মূলত একটি নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যু করার মতোই প্রক্রিয়া, যেখানে আপনার পুরাতন MRP তথ্য ব্যবহার করা হবে [২]।
- তথ্য নির্ভুল রাখুন: আবেদন ফর্মে সকল তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। কোনো ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে বা প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হতে পারে।
- সত্যায়নের প্রয়োজন নেই: ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হয় না [৭]।
- ছবি সংযোজনের প্রয়োজন নেই: ই-পাসপোর্ট ফরমে কোনো ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়ন করার প্রয়োজন নেই [৭]। ছবি পাসপোর্ট অফিসেই তোলা হবে।
- হেল্পলাইন: পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও পরামর্শের জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে ১৬৪৪৫ এবং প্রবাস/বিদেশ থেকে ০৯৬৬৬৭১৬৪৪৫ নম্বরে কল করতে পারেন [৫]।
- সময়সীমা: সাধারণ ডেলিভারির জন্য ২১ কার্যদিবস, জরুরি ডেলিভারির জন্য ৭ কার্যদিবস এবং অতি জরুরি ডেলিভারির জন্য ২ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। তবে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।
সাধারণ ভুল এবং করণীয়
- তথ্য ভুল দেওয়া: আবেদন ফর্মে নাম, জন্ম তারিখ, NID নম্বর বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য ভুল দিলে সমস্যা হতে পারে। NID বা জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী তথ্য দিন।
- কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকা: পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার আগে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (মূল ও ফটোকপি) নিশ্চিত করুন।
- সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্টে না যাওয়া: নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ ও সময়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন। দেরি হলে বা অনুপস্থিত থাকলে নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হতে পারে।
- ফি পরিশোধের প্রমাণ না রাখা: ফি পরিশোধের রশিদ বা অনলাইন পেমেন্টের প্রমাণপত্র যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন এবং পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে যান।
সহায়ক লিংক
- ই-পাসপোর্ট অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল: https://www.epassport.gov.bd/ [১]
- ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর: http://dip.gov.bd/ [৫]
- জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ: https://www.nidw.gov.bd
- জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: https://bdris.gov.bd
সংক্ষেপে
- ২০২৬ সালের পাসপোর্ট নবায়ন ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে, তবে ২০২৪ সালের ই-পাসপোর্ট ফি কাঠামো একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
- ই-পাসপোর্ট নবায়নের ফি পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠার সংখ্যা এবং ডেলিভারির ধরনের উপর নির্ভরশীল।
- আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু হয় এবং বায়োমেট্রিকের জন্য পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্ভুল তথ্য প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি।
তথ্যসূত্র
সম্পর্কিত বিষয়
আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।
জানতে চাই-তে খুঁজুন