পাসপোর্ট নবায়ন ফি ২০২৬ বাংলাদেশ — জানতে চাই
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়াটি মূলত নতুন পাসপোর্টের আবেদনের মতোই একটি পদ্ধতি। ২০২৬ সালে পাসপোর্ট নবায়নের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর), পৃষ্ঠার সংখ্যা এবং আবেদনের ধরনের (সাধারণ, জরুরি বা অতি জরুরি) ওপর। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি সরকারি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।
ই-পাসপোর্ট নবায়ন ফি (ভ্যাটসহ)
পাসপোর্টের মেয়াদ এবং আবেদনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফি-এর কাঠামো নিচে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, এই ফি-এর সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত থাকে।
| পাসপোর্টের ধরন | ডেলিভারি সময় | ৪৮ পৃষ্ঠা (৫ বছর) | ৪৮ পৃষ্ঠা (১০ বছর) | ৬৪ পৃষ্ঠা (৫ বছর) | ৬৪ পৃষ্ঠা (১০ বছর) |
|---|---|---|---|---|---|
| সাধারণ | ১৫-২১ কার্যদিবস | ৪,০২৫ টাকা | ৫,৭৫০ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,০৫০ টাকা |
| জরুরি | ৭-১০ কার্যদিবস | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| অতি জরুরি | ২-৩ কার্যদিবস | ৮,৬২৫ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লিখিত ফি-এর সাথে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় পরিবর্তন সাপেক্ষে এই ফি পরিবর্তিত হতে পারে।
পাসপোর্ট নবায়নের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়:
- বর্তমান পাসপোর্ট: মূল পাসপোর্ট এবং এর ডাটা পেজের ফটোকপি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): স্মার্ট কার্ড বা অনলাইন কপি। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) এবং পিতা-মাতার এনআইডি।
- পেমেন্ট স্লিপ: অনলাইন পেমেন্ট বা ব্যাংক চালানের কপি।
- পেশাগত প্রমাণপত্র: প্রয়োজনে পেশার প্রমাণস্বরূপ আইডি কার্ড বা সনদ (যেমন- শিক্ষার্থী হলে আইডি কার্ড, চাকরিজীবী হলে এনওসি)।
- তথ্য পরিবর্তন: যদি পাসপোর্টে কোনো তথ্য (নাম, ঠিকানা, পেশা) পরিবর্তন করতে হয়, তবে তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র (যেমন- কাবিননামা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা গেজেট) জমা দিতে হবে।
নবায়ন প্রক্রিয়া: ধাপসমূহ
পাসপোর্ট নবায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়। নিচে পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো দেওয়া হলো:
১. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এ গিয়ে 'Apply Online' বাটনে ক্লিক করুন। ২. তথ্য পূরণ: আপনার বর্তমান পাসপোর্টের তথ্য এবং ব্যক্তিগত তথ্যাদি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। ৩. ফি প্রদান: অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং) অথবা নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দিন। ৪. অ্যাপয়েন্টমেন্ট: ফি জমা দেওয়ার পর আপনার সুবিধামতো তারিখ ও সময় নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। ৫. বায়োমেট্রিক প্রদান: নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান সম্পন্ন করুন। ৬. পাসপোর্ট সংগ্রহ: পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর পাসপোর্ট অফিস থেকে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
- তথ্যের অমিল: এনআইডি কার্ড এবং বর্তমান পাসপোর্টের তথ্যে কোনো অমিল থাকলে নবায়ন আটকে যেতে পারে। আবেদন করার আগেই এনআইডি সংশোধন করে নেওয়া জরুরি।
- ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন: সাধারণ এবং জরুরি আবেদনের ফি ভিন্ন। ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন করলে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে হতে পারে।
- অসম্পূর্ণ আবেদন: অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি সাথে রাখতে ভুলবেন না।
- দালাল থেকে সাবধান: পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে কোনো মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নেবেন না। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ এবং সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
যদি আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকে, তবে দ্রুত নবায়নের জন্য আবেদন করা উচিত। এছাড়া, হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
সহায়ক লিংক
- ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর: https://www.passport.gov.bd
- ই-পাসপোর্ট ফি ক্যালকুলেটর: https://www.epassport.gov.bd
- জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ: https://www.nidw.gov.bd
- জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: https://bdris.gov.bd
সংক্ষেপে
- পাসপোর্ট নবায়ন ফি ডেলিভারির ধরন (সাধারণ/জরুরি) এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ৪,০২৫ টাকা থেকে ১৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
- পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি passport.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়।
- আবেদনের সময় এনআইডি এবং বর্তমান পাসপোর্টের তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় আবেদন বাতিল হতে পারে।
তথ্যসূত্র
সম্পর্কিত বিষয়
100% মানুষ এই তথ্য উপকারী পেয়েছেন (3টি মতামত)
আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।
জানতে চাই-তে খুঁজুন