জানতে চাই সার্চ করুন

প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আজকে বাংলাদেশ — জানতে চাই

· 4 বার পড়া হয়েছে · সর্বশেষ হালনাগাদ 21 Jul 2026

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হয় এবং এটি আন্তর্জাতিক বাজার, স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ, ডলারের বিনিময় হার এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত হারের উপর নির্ভরশীল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,২৮,৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে [৩, ৪, ৮]।

স্বর্ণের দাম: আজকের হালনাগাদ (২৭ জুন, ২০২৬)

বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম তার বিশুদ্ধতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিয়মিতভাবে দাম ঘোষণা করে থাকে। নিচে ২৭ জুন, ২০২৬ তারিখের জন্য প্রতি ভরি স্বর্ণের (১১.৬৬৪ গ্রাম) একটি উদাহরণমূলক মূল্য তালিকা দেওয়া হলো [৩, ৪, ৮]:

ক্যারেট প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য (টাকা) প্রতি গ্রাম মূল্য (টাকা)
২২ ক্যারেট ২,২৮,৫৫৬ ১৯,৫৯৫
২১ ক্যারেট ২,১৮,২৯২ ১৮,৭০৪
১৮ ক্যারেট ১,৮৭,৪৪০ ১৬,০৭০
সনাতন পদ্ধতি ১,৫৩,১৪৮ ১৩,১২১

দ্রষ্টব্য: স্বর্ণের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। উপরে উল্লিখিত দামগুলো ২৭ জুন, ২০২৬ তারিখের উদাহরণমূলক মূল্য। স্বর্ণ কেনার আগে অবশ্যই সর্বশেষ দাম যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ভরি কী?

বাংলাদেশে স্বর্ণ পরিমাপের একটি ঐতিহ্যবাহী একক হলো 'ভরি'। এক ভরি স্বর্ণ সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম [৭]। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সাধারণত আউন্স (এক আউন্স = ৩১.১০৩ গ্রাম) বা গ্রামে নির্ধারিত হলেও, বাংলাদেশে ভরি এককটি বহুল প্রচলিত।

বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের বিস্তারিত

স্বর্ণের ক্যারেট তার বিশুদ্ধতার মাত্রা নির্দেশ করে। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণকে ১০০% বিশুদ্ধ ধরা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কেনাবেচা হয়।

২২ ক্যারেট স্বর্ণ (Hallmark Gold)

২২ ক্যারেট স্বর্ণে ৯১.৬% বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে এবং বাকি ৮.৪% তামা, রূপা বা অন্যান্য ধাতু মিশ্রিত থাকে। এই মিশ্রণ স্বর্ণকে আরও মজবুত করে তোলে, যা গহনা তৈরির জন্য আদর্শ। বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং এটি হলমার্কযুক্ত হয়ে থাকে, যা এর বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয় [৪]।

২১ ক্যারেট স্বর্ণ

২১ ক্যারেট স্বর্ণে ৮৭.৫% বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে এবং বাকি ১২.৫% অন্যান্য ধাতু মিশ্রিত থাকে। ২২ ক্যারেটের তুলনায় এটি কিছুটা কম বিশুদ্ধ এবং এর দামও তুলনামূলকভাবে কম হয়।

১৮ ক্যারেট স্বর্ণ

১৮ ক্যারেট স্বর্ণে ৭৫% বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে এবং বাকি ২৫% অন্যান্য ধাতু থাকে। এটি ২২ বা ২১ ক্যারেটের চেয়ে কম বিশুদ্ধ এবং এর দামও সেই অনুযায়ী কম হয়। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ সাধারণত মজবুত এবং টেকসই গহনা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে ডিজাইনের জটিলতা বেশি থাকে।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নির্দিষ্ট থাকে না এবং এটি সাধারণত ১৮ ক্যারেটের নিচে হয়। এই ধরনের স্বর্ণে বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ কম থাকে এবং বিভিন্ন ধাতুর মিশ্রণ বেশি থাকে। এর দামও অন্যান্য ক্যারেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়। পুরনো বা ঐতিহ্যবাহী গহনা সাধারণত এই পদ্ধতির স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়।

স্বর্ণের দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া ও প্রভাবক

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কারণ প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই দাম নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

বাজুসের ভূমিকা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একটি শীর্ষস্থানীয় সংগঠন। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ, এবং সরকারের শুল্ক নীতি পর্যালোচনা করে বাজুস নিয়মিতভাবে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করে [৪]। তাদের নির্ধারিত দামই সারা দেশে কার্যকর হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হারের পরিবর্তন এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা হ্রাস বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করে। স্বর্ণকে সাধারণত একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তাই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় এর চাহিদা ও দাম বাড়ে।

ডলারের বিনিময় হার

বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দামের উপর ডলারের বিনিময় হারের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে স্বর্ণ আমদানি করে, তাই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে গেলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যার ফলে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায়।

স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ

উৎসব-পার্বণ, বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের সময় স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। যদি স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হয়, তাহলে দাম বাড়তে পারে।

সরকারি নীতি ও শুল্ক

সরকার কর্তৃক স্বর্ণ আমদানির উপর আরোপিত শুল্ক বা কর স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করে। শুল্ক বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং ফলস্বরূপ স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধি পায়।

স্বর্ণ কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়সমূহ

স্বর্ণ একটি মূল্যবান সম্পদ, তাই কেনার আগে কিছু বিষয় বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি:

  • সর্বশেষ দাম যাচাই: স্বর্ণ কেনার আগে অবশ্যই বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বা নির্ভরযোগ্য জুয়েলার্সের ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ দাম যাচাই করে নিন। দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে।
  • ক্যারেট ও বিশুদ্ধতা: আপনি কোন ক্যারেটের স্বর্ণ কিনছেন, তা নিশ্চিত করুন। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ক্ষেত্রে হলমার্ক চিহ্ন দেখে নিন, যা বিশুদ্ধতার প্রমাণ [৪]।
  • ওজন ও পরিমাপ: স্বর্ণ কেনার সময় ডিজিটাল স্কেলে সঠিক ওজন পরিমাপ করে নিন। এক ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম, এই হিসাবটি মনে রাখুন [৭]।
  • মজুরি (Making Charge): স্বর্ণের গহনা তৈরির জন্য মজুরি বা মেকিং চার্জ নেওয়া হয়, যা স্বর্ণের দামের অতিরিক্ত। এটি সাধারণত প্রতি ভরিতে একটি নির্দিষ্ট হারে বা মোট দামের শতাংশ হিসেবে নেওয়া হয়। কেনার আগে মজুরি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
  • ভ্যাট (VAT): স্বর্ণ কেনার সময় সাধারণত ৫% ভ্যাট প্রযোজ্য হয়। এটি স্বর্ণের দাম এবং মজুরির উপর ধার্য করা হয়।
  • রসিদ ও ওয়ারেন্টি: অবশ্যই পাকা রসিদ নিন, যেখানে স্বর্ণের ক্যারেট, ওজন, দাম, মজুরি, ভ্যাট এবং বিক্রেতার নাম ও ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। অনেক জুয়েলার্স স্বর্ণের বিশুদ্ধতার জন্য ওয়ারেন্টিও দিয়ে থাকে।
  • পুনর্বিক্রয় নীতি: ভবিষ্যতে স্বর্ণ বিক্রি করার প্রয়োজন হলে জুয়েলার্সের পুনর্বিক্রয় নীতি সম্পর্কে জেনে নিন। কিছু জুয়েলার্স নির্দিষ্ট শর্তে স্বর্ণ ফেরত বা পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়।

স্বর্ণের দামের ঐতিহাসিক প্রবণতা

স্বর্ণের দাম ঐতিহাসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির। বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিভিন্ন কারণে এর দাম বাড়ে বা কমে [৬]। দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি হেজ এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বল্পমেয়াদে এর দামের ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের দামেও পরিবর্তন দেখা গেছে [৬]।

স্বর্ণের দাম কোথায় দেখবেন?

বাংলাদেশে স্বর্ণের সর্বশেষ দাম জানতে আপনি নিম্নলিখিত উৎসগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

  • বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস): বাজুসের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা তাদের অনুমোদিত জুয়েলার্সদের মাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে সর্বশেষ দাম জানা যায়।
  • জুয়েলার্সদের ওয়েবসাইট: দেশের স্বনামধন্য জুয়েলার্স যেমন আল-আমিন জুয়েলার্স [৮] তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিনের স্বর্ণের দাম হালনাগাদ করে থাকে।
  • অর্থনৈতিক সংবাদ মাধ্যম: প্রথম আলো [৬], বণিক বার্তা [২], ঢাকা পোস্ট [৩], এখন টিভি [৭] সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদ পোর্টাল নিয়মিতভাবে স্বর্ণের দামের খবর প্রকাশ করে।
  • মোবাইল অ্যাপস: কিছু মোবাইল অ্যাপসও স্বর্ণের দামের র

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন