আজকের স্বর্ণের দাম বাংলাদেশ — জানতে চাই
স্বর্ণ একটি মূল্যবান ধাতু যা বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ, গহনা তৈরি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর দাম প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
আজ, বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ (সর্বশেষ বাজুস নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী):
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরি ২,৩০,৭৭২ টাকা।
- ২১ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরি ২,২০,৩৯১ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরি ১,৮৯,২৪৮ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: প্রতি ভরি ১,৫৪,৬০৬ টাকা।
এই দামগুলো বাজুস দ্বারা নির্ধারিত এবং হলমার্ককৃত স্বর্ণের জন্য প্রযোজ্য [১], [২], [৫]। স্বর্ণের দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে, তাই কেনার আগে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আজকের স্বর্ণের দাম (বিভিন্ন ক্যারেটে)
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম সাধারণত ক্যারেট অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ক্যারেট যত বেশি, স্বর্ণের বিশুদ্ধতা তত বেশি এবং দামও তত বেশি। নিচে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের আজকের দাম ভরি ও গ্রাম প্রতি উল্লেখ করা হলো:
| ক্যারেট | প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) [টাকা] | প্রতি গ্রাম [টাকা] |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,৩০,৭৭২ [১], [৫] | ১৯,৭৮৫ (প্রায়) |
| ২১ ক্যারেট | ২,২০,৩৯১ [১], [৫] | ১৮,৮৯৪ (প্রায়) |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৮৯,২৪৮ [১], [২], [৫] | ১৬,২২৫ [২] |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৫৪,৬০৬ [১], [২], [৫] | ১৩,২৫৫ [২] |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরে উল্লিখিত দামগুলো বাজুস (BAJUS) কর্তৃক নির্ধারিত এবং সাধারণত সারা দেশে একই থাকে। তবে, গহনা তৈরির মজুরি (making charge) এবং ভ্যাট (VAT) এই দামের অতিরিক্ত যোগ হয়। স্বর্ণ কেনার আগে অবশ্যই বিক্রেতার কাছ থেকে সর্বশেষ দাম ও অন্যান্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে কে?
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের একমাত্র কর্তৃপক্ষ হলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) [২], [৮]। বাজুস আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে নিয়মিতভাবে স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করে। তাদের ঘোষিত দামই দেশের সকল জুয়েলারি দোকানে অনুসরণ করা হয়।
স্বর্ণের দাম পরিবর্তনের কারণসমূহ
স্বর্ণের দাম বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কারণের উপর নির্ভর করে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। এর প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম: এটি স্বর্ণের দামের সবচেয়ে বড় নিয়ামক। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও সরবরাহ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ নীতি দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে [৭]।
- মার্কিন ডলারের বিনিময় হার: যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের লেনদেন মার্কিন ডলারে হয়, তাই ডলারের বিপরীতে টাকার মান ওঠানামা করলে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম পরিবর্তিত হয়। ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দাম বাড়ে এবং ডলার দুর্বল হলে দাম কমে [৭]।
- স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহ: বাংলাদেশের বাজারে উৎসব-পার্বণ, যেমন ঈদ, পূজা, বিয়ে ইত্যাদি মৌসুমে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি: বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন তাদের স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়ায় বা কমায়, তখন তা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উপর প্রভাব ফেলে।
- ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে দাম বেড়ে যায়।
- সুদের হার: যখন সুদের হার কম থাকে, তখন বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক বা বন্ডে বিনিয়োগের পরিবর্তে স্বর্ণের মতো সম্পদকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করে, যা স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় এবং দাম বাড়ায়।
স্বর্ণ কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
স্বর্ণ একটি মূল্যবান সম্পদ, তাই কেনার আগে কিছু বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত:
- বাজুস নির্ধারিত দাম যাচাই করুন: জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে বাজুসের ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে আজকের স্বর্ণের দাম জেনে নিন।
- হলমার্ক দেখে কিনুন: বাংলাদেশে বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত হলমার্কযুক্ত স্বর্ণ কেনা নিরাপদ। হলমার্ক স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে [২]।
- ক্যারেট বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করুন: আপনি কোন ক্যারেটের স্বর্ণ কিনছেন, তা নিশ্চিত করুন। গহনার জন্য সাধারণত ২২ ক্যারেট স্বর্ণই বেশি প্রচলিত।
- মেকিং চার্জ (মজুরি) সম্পর্কে জানুন: স্বর্ণের দামের সাথে গহনা তৈরির মজুরি যোগ হয়। এটি গহনার ডিজাইন এবং ওজনের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। কেনার আগে মেকিং চার্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
- পাকা রশিদ নিন: স্বর্ণ কেনার সময় অবশ্যই বিক্রেতার কাছ থেকে ক্যারেট, ওজন, দাম, মেকিং চার্জ এবং ভ্যাট উল্লেখ করে একটি পাকা রশিদ নিন। ভবিষ্যতে স্বর্ণ বিক্রি বা পরিবর্তন করতে এটি প্রয়োজন হবে।
- পুরানো স্বর্ণ বিক্রির নিয়মাবলী: যদি আপনি পুরানো স্বর্ণ বিক্রি করতে চান, তবে বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী কিছু মূল্য কাটা যেতে পারে। এ বিষয়েও আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
স্বর্ণের ক্যারেট ও বিশুদ্ধতা
স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ক্যারেট দ্বারা পরিমাপ করা হয়। ক্যারেট যত বেশি, স্বর্ণ তত বেশি বিশুদ্ধ।
- ২৪ ক্যারেট (৯৯.৯৯% বিশুদ্ধ): এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ স্বর্ণ। সাধারণত বার বা কয়েন আকারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এই স্বর্ণ দিয়ে গহনা তৈরি করা হয় না, কারণ এটি খুব নরম হয়।
- ২২ ক্যারেট (৯১.৬% বিশুদ্ধ): গহনা তৈরির জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারেট। এতে ৯১.৬% বিশুদ্ধ স্বর্ণ এবং বাকি ৮.৪% অন্যান্য ধাতু (যেমন তামা, রূপা) মেশানো হয়, যা গহনাকে মজবুত করে।
- **২১ ক্য
তথ্যসূত্র
সম্পর্কিত বিষয়
আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।
জানতে চাই-তে খুঁজুন