জানতে চাই সার্চ করুন

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন — জানতে চাই

· 7 বার পড়া হয়েছে · সর্বশেষ হালনাগাদ 07 Jul 2026

বাংলাদেশে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর জন্য বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) এই লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়, যার শুরু হয় লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের মাধ্যমে এবং শেষ হয় স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির মাধ্যমে। এই নিবন্ধে আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ড্রাইভিং লাইসেন্স কী এবং কেন প্রয়োজন?

ড্রাইভিং লাইসেন্স হলো একটি সরকারি নথি যা একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শ্রেণীর যানবাহন চালানোর অনুমতি প্রদান করে। এটি প্রমাণ করে যে ব্যক্তিটি গাড়ি চালানোর নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত এবং নিরাপদে যানবাহন চালাতে সক্ষম। বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতাই নয়, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও অপরিহার্য।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রকারভেদ

বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রচলিত আছে:

১. অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স (Non-Professional Driving License)

যেসব ব্যক্তি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা শখের বশে গাড়ি চালাতে চান, তাদের জন্য এই লাইসেন্স। এই লাইসেন্সধারীরা কোনো প্রকার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যানবাহন চালাতে পারবেন না। অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে [২]।

২. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স (Professional Driving License)

যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য যানবাহন চালাতে চান (যেমন: বাস, ট্রাক, ট্যাক্সি, ডেলিভারি ভ্যান ইত্যাদি), তাদের জন্য এই লাইসেন্স। পেশাদার লাইসেন্সকে আবার গাড়ির ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়, যেমন: হালকা (Light), মধ্যম (Medium) এবং ভারী (Heavy)। পেশাদার লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হতে হবে [২]।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের পূর্বশর্ত

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার আগে কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাশ হতে হবে [২]।
  • বয়স:
    • অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর [২]।
    • পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম ২১ বছর [২]।
  • শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা: আবেদনকারীকে শারীরিকভাবে সুস্থ এবং মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে। এর জন্য একটি নিবন্ধিত ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।
  • লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স: ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা [২]। এই লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ৩ মাস) প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়া

স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়।

ধাপ ১: অনলাইন আবেদন ও নিবন্ধন

  • BRTA সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BRTA) সার্ভিস পোর্টালে (bsp.brta.gov.bd) প্রবেশ করুন [৩], [৮]।
  • রেজিস্ট্রেশন: যদি আপনার পূর্বে কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে "রেজিস্ট্রেশন" অপশনে ক্লিক করে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
  • প্রোফাইল তৈরি ও তথ্য পূরণ: নিবন্ধনের পর আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। আপনার প্রোফাইলে বিভাগ, জেলা ও থানা সহ সকল ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন [৮]।
  • আবেদন ফরম পূরণ: "ড্রাইভিং লাইসেন্স" সেকশনে গিয়ে "লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন" অপশনটি নির্বাচন করুন। এরপর অনলাইনে প্রদর্শিত আবেদন ফরমটি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। এখানে আপনি কোন শ্রেণীর (যেমন: মোটরসাইকেল, হালকা যান) লার্নার লাইসেন্স চান তা উল্লেখ করতে হবে।

ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড

অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের সময় আপনাকে কিছু স্ক্যান করা কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। এগুলি হলো:

  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট আকারের ছবি (৩০০x৩০০ পিক্সেল, জেপিজি ফরম্যাট)।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) স্ক্যান কপি।
  • চিকিৎসা সনদের (Medical Certificate) স্ক্যান কপি।
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেমন: বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের স্ক্যান কপি)।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের স্ক্যান কপি (যদি প্রয়োজন হয়)।

ধাপ ৩: ফি পরিশোধ

আবেদন ফরম পূরণ এবং কাগজপত্র আপলোড করার পর আপনাকে লার্নার লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের জন্য আপনি অনলাইনে পেমেন্ট গেটওয়ে (যেমন: বিকাশ, রকেট, নগদ) ব্যবহার করতে পারেন অথবা BRTA কর্তৃক নির্ধারিত ব্যাংকে (যেমন: সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক) চালানের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারেন। ফি জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রশিদটি সংরক্ষণ করুন।

ধাপ ৪: লার্নার লাইসেন্স প্রিন্ট

ফি পরিশোধ সম্পন্ন হলে আপনার আবেদনটি BRTA কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে আপনি BRTA সার্ভিস পোর্টাল থেকে আপনার লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন। এই লাইসেন্সটি নিয়ে আপনি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারবেন। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর সাধারণত কমপক্ষে ৩ মাস প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং এরপর স্মার্ট কার্ডের জন্য পরীক্ষা দেওয়া যায়।

স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে আপনাকে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিতে হবে।

ধাপ ১: লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা

  • পরীক্ষার জন্য আবেদন: লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর BRTA সার্ভিস পোর্টালে লগইন করে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষার আবেদন করতে হবে।
  • পরীক্ষার তারিখ ও স্থান: BRTA আপনার লার্নার লাইসেন্সের মেয়াদ এবং আপনার নির্বাচিত BRTA অফিসের ভিত্তিতে একটি পরীক্ষার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করবে। এটি সাধারণত SMS এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।
  • পরীক্ষার ধরন:
    • লিখিত পরীক্ষা: ট্রাফিক আইন, সড়ক চিহ্ন এবং গাড়ির মৌলিক বিষয়াবলী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।
    • মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে ট্রাফিক আইন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।
    • ব্যবহারিক পরীক্ষা (ড্রাইভিং টেস্ট): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখানে আপনাকে BRTA কর্তৃক নির্ধারিত মাঠে গাড়ি চালিয়ে আপনার দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো, পার্কিং, সিগন্যাল অনুসরণ ইত্যাদি বিষয় পরীক্ষা করা হয়।

ধাপ ২: বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ

সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আপনাকে BRTA অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য (ডিজিটাল ছবি, আঙ্গুলের ছাপ এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর) প্রদানের জন্য ডাকা হবে। এই ধাপটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), লার্নার লাইসেন্স এবং পরীক্ষার ফলাফলের কপি সাথে নিয়ে যেতে হবে।

ধাপ ৩: স্মার্ট কার্ড ডেলিভারি

বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর BRTA আপনার স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুত করবে। লাইসেন্স প্রস্তুত হলে আপনাকে SMS এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আপনি BRTA অফিস থেকে আপনার স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন। সাধারণত, বায়োমেট্রিক প্রদানের পর ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে স্মার্ট কার্ড পাওয়া যায়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর মূল কপি ও ফটোকপি [২]।
  • সদ্য তোলা পাসপোর্ট আকারের ছবি (৩ কপি) এবং স্ট্যাম্প আকারের ছবি (১ কপি)।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি (ন্যূনতম ৮ম শ্রেণী পাশ) [২]।
  • নিবন্ধিত ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট।
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেমন: বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের ফটোকপি)।
  • লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপি ও ফটোকপি (স্মার্ট কার্ডের আবেদনের জন্য)।
  • আবেদন ফি জমার রশিদ [১]।
  • পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট (যদি প্রয়োজন হয়)।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের ফি

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের বিভিন্ন ধাপে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। ফি এর পরিমাণ BRTA কর্তৃক সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। নিচে কিছু আনুমানিক ফি উল্লেখ করা হলো

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন