জানতে চাই সার্চ করুন

UK তে বাংলাদেশি কমিউনিটি কোথায় — জানতে চাই

· 9 বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটি মূলত লন্ডন, বিশেষ করে ইস্ট লন্ডনে কেন্দ্রীভূত, তবে ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, লুটন, ওল্ডহ্যাম এবং ব্র্যাডফোর্ডসহ আরও অনেক শহরে এর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এই কমিউনিটির একটি বড় অংশ বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল থেকে আগত এবং তারা যুক্তরাজ্যের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রধান কেন্দ্রস্থলসমূহ

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যা মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া অভিবাসনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে [৫]। এই কমিউনিটি বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকলেও, কিছু নির্দিষ্ট এলাকা তাদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

লন্ডন: ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র

লন্ডন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীনতম কেন্দ্র। এখানে প্রায় অর্ধেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বসবাস করেন। লন্ডনের বিভিন্ন বরোতে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা যায়।

  • ইস্ট লন্ডন ও ব্রিক লেন (East London & Brick Lane): ইস্ট লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস (Tower Hamlets) বরো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে সুপরিচিত কেন্দ্র। এখানকার ব্রিক লেন এলাকাটি "বাংলটাউন" (Banglatown) নামে পরিচিত এবং এটি বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার ও ব্যবসার একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র। এখানে অসংখ্য বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি শপ, পোশাকের দোকান এবং কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। প্রতি বছর এখানে বাংলা নববর্ষ এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক উৎসব পালিত হয়। ব্রিক লেন শুধু ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মিলনস্থল নয়, এটি লন্ডনের একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণও বটে [৫]।
  • অন্যান্য এলাকা: টাওয়ার হ্যামলেটস ছাড়াও লন্ডনের নিউহ্যাম (Newham), রেডব্রিজ (Redbridge), ক্যামডেন (Camden), ওয়েস্টমিনস্টার (Westminster) এবং হ্যাকনি (Hackney) বরোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। এই এলাকাগুলোতেও বাংলাদেশি মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখা যায়।

লন্ডনের বাইরে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শহর

লন্ডনের বাইরেও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। এই শহরগুলো মূলত শিল্পাঞ্চল এবং ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

  • ম্যানচেস্টার (Manchester): উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রধান শহর ম্যানচেস্টারে একটি বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে [৩]। এখানেও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট এবং কমিউনিটি সংগঠন দেখা যায়।
  • বার্মিংহাম (Birmingham): মিডল্যান্ডসের এই বৃহত্তম শহরটিতেও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন [৩]। বার্মিংহামের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ব্যবসার ছাপ স্পষ্ট।
  • লুটন (Luton): বেডফোর্ডশায়ারের এই শহরটি তার বড় বাংলাদেশি জনসংখ্যার জন্য পরিচিত। এখানেও কমিউনিটির সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।
  • ওল্ডহ্যাম (Oldham): গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই শহরটিতেও একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে, যারা স্থানীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখছে।
  • ব্র্যাডফোর্ড (Bradford): পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের ব্র্যাডফোর্ড শহরেও বাংলাদেশিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস করে।
  • রচডেল (Rochdale): গ্রেটার ম্যানচেস্টারের আরেকটি শহর রচডেলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে।
  • কার্ডিফ (Cardiff): ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফেও একটি ছোট কিন্তু সক্রিয় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে।
  • এডিনবার্গ (Edinburgh): স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি দেখা যায়।

এই শহরগুলো ছাড়াও, সান্ডারল্যান্ড (Sunderland), নিউক্যাসল (Newcastle), লিডস (Leeds), শেফিল্ড (Sheffield), পোর্টসমাউথ (Portsmouth) এবং সাউথহ্যাম্পটন (Southampton)-এর মতো শহরগুলোতেও ছোট ছোট বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাস ও বিবর্তন

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরনো হলেও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এর উল্লেখযোগ্য অভিবাসন শুরু হয়।

  • প্রথম দিকের অভিবাসন: ১৭শ শতক থেকে ব্রিটিশ জাহাজে কাজ করা বাঙালি নাবিকরা (লাস্কার) প্রথম যুক্তরাজ্যে আসেন। এদের অনেকেই বন্দর নগরীগুলোতে স্থায়ী হন এবং স্থানীয় নারীদের বিয়ে করেন। তবে, বড় আকারের অভিবাসন শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত ব্রিটেনে শ্রমিকের চাহিদা বাড়ে [৫]।
  • সত্তর দশকের ঢেউ: ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অভিবাসনের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এই সময়ে আগত অভিবাসীদের বেশিরভাগই ছিলেন সিলেট অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকার পুরুষরা, যারা মূলত রেস্টুরেন্ট শিল্পে কাজ করার জন্য এসেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অর্থ উপার্জন করে দেশে পাঠানো [৫]।
  • বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্মে পদার্পণ করেছে। তারা শুধু রেস্টুরেন্ট শিল্পেই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, রাজনীতি, ব্যবসা এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারা ব্রিটিশ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, একই সাথে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

কমিউনিটির বৈশিষ্ট্য ও অবদান

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি যুক্তরাজ্যের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বহুবিধ অবদান রাখছে।

  • সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবন:
    • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: কমিউনিটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মসজিদ, যা শুধু উপাসনার স্থান নয়, সামাজিক মিলনকেন্দ্র এবং শিশুদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখানোর স্থান হিসেবেও কাজ করে।
    • কমিউনিটি সেন্টার: বিভিন্ন শহরে অসংখ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে, যেখানে সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
    • উৎসব: ঈদ, বাংলা নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবগুলো কমিউনিটি কর্তৃক অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়।
    • খাদ্য সংস্কৃতি: বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টগুলো ব্রিটিশ খাদ্য সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কারি হাউসগুলো যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার সরবরাহ করে।
  • অর্থনৈতিক অবদান:
    • রেস্টুরেন্ট শিল্প: ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা যুক্তরাজ্যের রেস্টুরেন্ট শিল্পের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
    • ক্ষুদ্র ব্যবসা: গ্রোসারি শপ, ট্রাভেল এজেন্সি, পোশাকের দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে তারা স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখে।
  • রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব:
    • স্থানীয় রাজনীতি: ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং বিভিন্ন কাউন্সিলে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।
    • দানশীলতা: ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা দানশীলতায় শীর্ষে রয়েছে এবং বিভিন্ন দাতব্য কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে [৮]। তারা বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের উভয় স্থানেই বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহায়তা করে।
  • শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা: যুক্তরাজ্যে নতুন আগত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সংগঠন রয়েছে, যা তাদের তথ্য, পরামর্শ এবং সামাজিক সহায়তা প্রদান করে [১, ২, ৬]।

কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার উপায়

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে যুক্ত হতে চাইলে বেশ কিছু উপায় রয়েছে:

  • অনলাইন প্ল্যাটফর্ম:
    • ফেসবুক গ্রুপ: যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য অসংখ্য সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে আপনি তথ্য পেতে, প্রশ্ন করতে এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। যেমন:
      • Bangladeshi Community in the UK- UKBD🤝 [১]
      • Bangladeshi Community in London (UK) [২]
      • Bangladeshi Community in UK. (London,Manchester, Birmingham ...) [৩]
      • Bangladeshi Community UK - BCUK [৬]
    • ওয়েবসাইট ও ফোরাম: কিছু কমিউনিটি ওয়েবসাইট এবং অনলাইন ফোরাম রয়েছে যেখানে বিভিন্ন তথ্য ও আলোচনা পাওয়া যায়।
  • স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার ও মসজিদ: আপনার কাছাকাছি বাংলাদেশি কমিউনিটি সেন্টার বা মসজিদে যোগাযোগ করুন। এগুলো সাধারণত স্থানীয় কমিউনিটির কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।
  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা: বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ করুন। এটি নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার এবং কমিউনিটির অংশ হওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ।
  • রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান: স্থানীয় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি শপ বা অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও আপনি কমিউনিটির সদস্যদের সাথে পরিচিত হতে পারেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • ভিসা স্ক্যামারদের থেকে সাবধান: অনলাইন গ্রুপগুলোতে ভিসা বা অভিবাসন সংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। অনেক সময় স্ক্যামাররা ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা করে [৩]। সর্বদা অফিসিয়াল সূত্র এবং নির্ভরযোগ্য আইনজীবীদের পরামর্শ নিন।
  • সঠিক তথ্য যাচাই করুন: যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করে নিন। বিশেষ করে নতুন আগতদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলুন: যুক্তরাজ্যের আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত থাকুন এবং সেগুলো মেনে চলুন।
  • যোগাযোগ স্থাপন করুন: কমিউনিটির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকুন। এটি আপনার নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে সাহায্য করবে।

সহায়ক লিংক

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন