জানতে চাই সার্চ করুন

UK তে বাংলাদেশি খাবারের দোকান — জানতে চাই

· 8 বার পড়া হয়েছে · সর্বশেষ হালনাগাদ 17 Jul 2026

ইউকে (UK) বা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি খাবারের দোকানের অভাব নেই, বিশেষ করে লন্ডনে। প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয়দের কাছে বাংলাদেশি খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয়। রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে মুদি দোকান পর্যন্ত, ইউকের বিভিন্ন শহরে আপনি সহজেই আপনার পছন্দের দেশীয় খাবার ও পণ্য খুঁজে পাবেন [১, ৪]।

ইউকে-তে বাংলাদেশি খাবারের দোকানের প্রকারভেদ

যুক্তরাজ্যে মূলত তিন ধরনের বাংলাদেশি খাবারের দোকান দেখা যায়:

১. বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও বাফেট (Bangladeshi Restaurants & Buffets)

ইউকে-তে অসংখ্য বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যা দেশীয় খাবারের স্বাদ নিতে চাওয়া মানুষের জন্য এক দারুণ আশ্রয়স্থল। এসব রেস্টুরেন্টে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের বাঙালি রান্না পরিবেশন করা হয়।

  • প্রাপ্য খাবার: মাছ ভুনা, গরুর মাংস, মুরগির মাংস (মুগ ডাল বা বুটের ডাল দিয়ে), মিক্সড সবজি ভাজি, ডিম ভুনা, শুটকি ভুনা, আলুভর্তা, ডিম ভর্তা, মাছের তরকারি, খিচুড়ি, রোস্ট ইত্যাদি জনপ্রিয় পদগুলো প্রায় সব রেস্টুরেন্টেই পাওয়া যায় [৫]।
  • বাফেট সিস্টেম: লন্ডনে কিছু বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট বাফেট সিস্টেমে আনলিমিটেড খাবার পরিবেশন করে, যা বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় [২]।
  • পরিবেশ: অনেক রেস্টুরেন্টের ভেতরের সাজসজ্জা এবং খাবারের নাম বাংলায় লেখা থাকে, যা বিদেশেও দেশের আবহ তৈরি করে [১]।

২. বাংলাদেশি/এশিয়ান গ্রোসারি বা মুদি দোকান (Bangladeshi/Asian Grocery Stores)

এসব দোকানে সাধারণত রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় দেশীয় উপকরণ, শাকসবজি, মাছ, মাংস এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যায়।

  • প্রাপ্য পণ্য:
    • শাকসবজি: দেশীয় কাঁচা লঙ্কা [৬], লাউ, শিম, বেগুন, পুঁইশাক, লালশাক ইত্যাদি।
    • শুকনো পণ্য: মুড়ি [৩], বিভিন্ন প্রকার ডাল, চাল, মশলা, আটা, ময়দা।
    • মাছ ও মাংস: তাজা ও হিমায়িত দেশীয় মাছ (যেমন ইলিশ, রুই, কাতলা), হালাল মাংস।
    • অন্যান্য: দেশীয় মিষ্টি, পিঠা, আচার, চানাচুর, বিস্কুট এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি পণ্য।
  • বিশেষত্ব: এসব দোকানে কেনাকাটা করলে মনে হয় না যে আপনি বিদেশে আছেন, কারণ পরিবেশ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আপনাকে দেশের বাজারের কথা মনে করিয়ে দেবে [৪]।

৩. অনলাইন ডেলিভারি ও হোম-বেজড সার্ভিস (Online Delivery & Home-based Services)

সাম্প্রতিক সময়ে ইউকে-তে অনেক ছোট ব্যবসা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ গড়ে উঠেছে, যারা অনলাইনে অর্ডার নিয়ে ঘরে তৈরি দেশীয় খাবার ডেলিভারি করে।

  • সুবিধা: যারা রেস্টুরেন্টে যেতে চান না বা ঘরে তৈরি খাবারের স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প। বিশেষ করে শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীরা এই ধরনের সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই দেশীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।
  • যোগাযোগ: অনেক সময় ফেসবুক গ্রুপ বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া হয়। যেমন, একটি ফেসবুক গ্রুপে মাছ ভুনা, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, মিক্সড সবজি ভাজি, ডিম ভুনা, শুটকি ভুনা, আলুভর্তা, ডিম ভর্তা, মাছের তরকারি, খিচুড়ি, রোস্টের মতো খাবারের অর্ডার নেওয়া হয় এবং যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও (যেমন: 07830 153154) দেওয়া হয়েছে [৫]।

কোথায় খুঁজে পাবেন বাংলাদেশি খাবারের দোকান?

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি খাবারের দোকান থাকলেও, কিছু নির্দিষ্ট এলাকা বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় সেখানে এদের সংখ্যা অনেক বেশি।

লন্ডনে বাংলাদেশি খাবারের ঠিকানা

লন্ডন বাংলাদেশি সংস্কৃতির এক বিশাল কেন্দ্র। এখানে আপনি সহজেই অসংখ্য বাংলাদেশি খাবারের দোকান খুঁজে পাবেন।

  • ব্রিক লেন (Brick Lane): এটি "বাংল টাউন" নামেও পরিচিত এবং লন্ডনের বাংলাদেশি খাবারের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত স্থান। এখানে সারি সারি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যা কারি হাউজ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
  • গ্রিন স্ট্রিট (Green Street, East London): এটি পূর্ব লন্ডনের একটি ব্যস্ত এলাকা, যেখানে অসংখ্য বাংলাদেশি গ্রোসারি শপ, মিষ্টির দোকান এবং রেস্টুরেন্ট রয়েছে [৪]। এখানে বাজার করতে এলে মনে হয় না যে আপনি বিদেশে আছেন [৪]।
  • হোয়াইটচ্যাপেল (Whitechapel): ব্রিক লেনের কাছেই অবস্থিত এই এলাকাতেও অনেক বাংলাদেশি খাবারের দোকান ও মুদি দোকান রয়েছে।
  • অন্যান্য এলাকা: টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, বেথনাল গ্রিন, স্টেপনি গ্রিন ইত্যাদি এলাকাতেও বাংলাদেশি খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।

লন্ডনের বাইরে অন্যান্য শহরে

লন্ডন ছাড়াও ইউকের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও বাংলাদেশি খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন।

  • বার্মিংহাম (Birmingham)
  • ম্যানচেস্টার (Manchester)
  • ওল্ডহ্যাম (Oldham)
  • ব্রাডফোর্ড (Bradford)
  • লুটন (Luton)
  • কার্ডিফ (Cardiff)
  • এডিনবার্গ (Edinburgh)
  • গ্লাসগো (Glasgow)

এই শহরগুলোতে সাধারণত "এশিয়ান স্টোর" বা "ইন্টারন্যাশনাল গ্রোসারি" নামে দোকানগুলো পরিচিত হলেও, সেখানে বাংলাদেশি পণ্য ও খাবার সহজেই পাওয়া যায়।

কী ধরনের খাবার ও পণ্য পাওয়া যায়?

ইউকে-তে বাংলাদেশি খাবারের দোকানগুলোতে দেশীয় প্রায় সব ধরনের খাবার ও পণ্যই পাওয়া যায়।

  • তাজা শাকসবজি ও ফল: লাউ, শিম, বেগুন, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পুঁইশাক, লালশাক, ধনে পাতা, কাঁচা লঙ্কা [৬] ইত্যাদি। কিছু ফল যেমন আম, কাঁঠাল (মৌসুমী) ইত্যাদিও পাওয়া যায়।
  • মাছ ও মাংস: তাজা ও হিমায়িত রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, ইলিশ এবং হালাল গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগির মাংস।
  • ডাল ও চাল: মসুর ডাল, মুগ ডাল, বুটের ডাল, পোলাও চাল, বাসমতী চাল, সিদ্ধ চাল।
  • মশলা: হলুদ, মরিচ, জিরা, ধনে, গরম মশলা, আদা, রসুন ইত্যাদি সব ধরনের মশলা।
  • শুকনো খাবার ও স্ন্যাকস: মুড়ি [৩], চানাচুর, বিস্কুট, সেমাই, নুডুলস, বিভিন্ন ধরনের আচার।
  • মিষ্টি ও পিঠা: রসগোল্লা, চমচম, কালোজাম, সন্দেশ এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পিঠা (যেমন ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা) কিছু দোকানে পাওয়া যায়।
  • অন্যান্য: দেশীয় পানীয়, সস, তেল এবং রান্নাঘরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

দাম ও গুণগত মান

ইউকে-তে বাংলাদেশি খাবারের দোকানগুলোতে পণ্যের দাম সাধারণত বাংলাদেশের তুলনায় বেশি হয়।

  • দামের তারতম্য: কাঁচা লঙ্কার মতো কিছু পণ্যের দাম ইউকেতে অনেক বেশি হতে পারে। যেমন, এক কেজি কাঁচা লঙ্কার দাম প্রায় সাত পাউন্ড হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় অনেক বেশি [৬]। মুড়ির দামও ইউকেতে বেশি [৩]।
  • গুণগত মান: বেশিরভাগ দোকানে পণ্যের গুণগত মান ভালো হয়। তবে, তাজা শাকসবজি বা মাছ কেনার সময় মেয়াদ এবং সতেজতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। কিছু দোকান বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য আমদানি করে, যা গুণগত মানের দিক থেকে বেশ ভালো হয়।

টিপস ও পরামর্শ

ইউকে-তে বাংলাদেশি খাবারের দোকান থেকে কেনাকাটা বা খাবার খাওয়ার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে:

  • গবেষণা করুন: নতুন কোনো শহরে গেলে গুগল ম্যাপস বা অনলাইন রিভিউ দেখে আপনার কাছাকাছি ভালো বাংলাদেশি দোকান বা রেস্টুরেন্ট খুঁজে বের করুন।
  • স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করুন: স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জিজ্ঞাসা করলে তারা সেরা দোকানগুলোর সন্ধান দিতে পারবে।
  • দাম তুলনা করুন: একই পণ্যের দাম বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন হতে পারে। তাই সম্ভব হলে কয়েকটি দোকানের দাম তুলনা করে কেনাকাটা করুন।
  • সতেজতা যাচাই: তাজা শাকসবজি, মাছ বা মাংস কেনার সময় পণ্যের সতেজতা ও মেয়াদ দেখে নিন।
  • অনলাইন গ্রুপ: ইউকে-তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন। এসব গ্রুপে প্রায়শই নতুন দোকান, অফার বা হোম-বেজড ফুড সার্ভিসের তথ্য পাওয়া যায় [৫]।
  • বিশেষ অফার: কিছু দোকানে বা রেস্টুরেন্টে নির্দিষ্ট দিনে বা উপলক্ষে বিশেষ অফার থাকে। সেগুলোর দিকে নজর রাখুন।
  • দেশ থেকে আনা খাবার: যদিও ইউকেতে অনেক বাংলাদেশি খাবার পাওয়া যায়, তবুও কিছু মানুষ বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু খাবার নিয়ে আসেন [১, ৭]। তবে, ইউকেতে খাবার আনার ক্ষেত্রে কাস্টমস নিয়মাবলী মেনে চলা জরুরি।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি খাবারের দোকানগুলো শুধু খাবারের চাহিদা মেটায় না, বরং প্রবাসীদের জন্য দেশের সংস্কৃতির একটি অংশকে বাঁচিয়ে রাখে এবং নতুন প্রজন্মকে তাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।

সহায়ক লিংক

  • GOV.UK: যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন এবং বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন।
  • বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন (Bangladesh High Commission, London): প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সেবা ও তথ্য প্রদান করে।
  • NHS (National Health Service): যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সংক্ষেপে

  • যুক্তরাজ্যে, বিশেষ করে লন্ডনে (যেমন ব্রিক লেন, গ্রিন স্ট্রিট), অসংখ্য বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, বাফেট এবং মুদি দোকান রয়েছে, যা দেশীয় খাবার ও পণ্য সরবরাহ করে।
  • মাছ ভুনা, গরুর মাংস, মুড়ি, কাঁচা লঙ্কা সহ বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের খাবার ও রান্নার উপকরণ এসব দোকানে পাওয়া যায়, যদিও দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি হতে পারে।
  • অনলাইন ডেলিভারি এবং হোম-বেজড সার্ভিসগুলোও প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয়, যা ঘরে তৈরি খাবারের স্বাদ পেতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র

সম্পর্কিত বিষয়

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে এসেছে?

আরও প্রশ্ন আছে? AI দিয়ে সরাসরি উত্তর পান।

জানতে চাই-তে খুঁজুন